দীর্ঘদৃষ্টি ও হ্রস্বদৃষ্টিসংক্রান্ত গাণিতিক সমস্যার সমাধান

করিম ও রহিমের চশমা ছাড়া চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্ব যথাক্রমে 50 cm এবং 12.5 cm। কিন্তু চশমাসহ প্রত্যেকের চোখের ন্যূনতম দূরত্ব 25 cm।
(ক) দীর্ঘদৃষ্টি ও হ্রস্বদৃষ্টি ত্রুটি ব্যাখ্যা কর।
(খ) করিমের চশমার লেন্সের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয় কর।
(গ) চোখের ত্রুটি অনুসারে করিম ও রহিমের চশমার লেন্সের ধরনের সঠিকতা গাণিতিক যুক্তিসহ যাচাই কর।

সমাধানঃ (ক) চোখ যদি কোনো কারণে নিকটের বস্তুসমূহ স্পষ্ট দেখতে সমস্যাবোধ করে, তবে এরূপ ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটি বলে। কারণ এ ধরনের চোখ দূরের বস্তুসমূহ ঠিকই স্পষ্ট দেখতে পায়। সাধারণতঃ বয়সের সাথে সাথে দীর্ঘদিন ধরে চোখ ব্যবহার করার কারণে একসময় চোখের ক্ষমতা কমে যায়। এখানে, ক্ষমতা বলতে অভিসারী বা উপযোজন ক্ষমতা বুঝায়।

এছাড়া অক্ষিকোটরের আকার ছোট হয়ে গেলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে খনিজ লবণযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মাথার খুলির ভেতরের ফাঁকা স্থানসমূহ আস্তে আস্তে ভরাট হতে শুরু করে। তখন অক্ষিকোটরের স্থান ছোট হয়ে যেতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চোখের উপযোজন বা অ্যাডাপট্যাশন ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটি দেখা দেয়।

ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম, একটি ধাতব তার বারবার দৈর্ঘ্যে সংকুচিত ও প্রসারিত করতে থাকলে এর স্থিতিস্থাপকতা ধর্ম হ্রাস পায়, তখন এক পর্যায়ে এতে ‘স্থিতিস্থাপক ক্লান্তি’ চলে আসতে পারে। চোখের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই ঘটে। কারণ মানুষ যখন নিকটের বস্তু দেখতে চায়, তখন কৃত্রিম চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে চক্ষুলেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমিয়ে সেটা দেখে; আবার পরক্ষণেই যখন দূরের বস্তু দেখে তখন চোখের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে যায়। অর্থাৎ চক্ষুলেন্সের পুরুত্ব অনবরত হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে থাকে জীবদ্দশায়।

দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটি প্রতিকারে এমন ক্ষমতার উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করতে হবে যেন চোখ হতে ২৫ সেমি দূরত্বে বই বা অন্য কোনো বস্তু রাখলে তার অবাস্তব ও সোজা বিম্ব ত্রুটিপূর্ণ চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকট বিন্দুতে গঠিত হয়। এক্ষেত্রে বিম্বটি দেখতে লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কিছু বড় মনে হবে। আরেকটি বিষয় হলো এই যে, অবাস্তব বিম্ব গঠিত হবে চোখের তথা চশমার যে পাশে লক্ষ্যবস্তু আছে সে পাশে।

এবার হ্রস্বদৃষ্টি ত্রুটির বিষয়ে বলি। কোনো ব্যক্তি যখন কাছের বস্তুসমূহ স্পষ্ট দেখে, কিন্তু দূরের বস্তুসমূহ স্পষ্ট দেখতে পায় না, তখন চোখের এরূপ ত্রুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি ত্রুটি বলে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকট বিন্দু অপেক্ষা কম হয়, যা স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *